সংবিধান

যে কোন প্রতিষ্ঠানের সংবিধানই একটি মৌলিক দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। সংগঠন পরিচালনা, শৃঙ্খলা ও নীতিমালা সংরক্ষণে এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এই সংগঠনের সংবিধান এক পবিত্র আমানত। এর প্রতিটি দিক কুরআন, সুন্নাহ 'র ঐতিহ্যের আলোকে প্রণয়ন করা হয়েছে। তাই এই সমিতির সকল কর্মতৎপরতা এই সংবিধানের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

মৌলিক নীতিমালাকে অক্ষুন্ন রেখে পরিবেশ ও পরিস্থিতির দাবি অনুসারে এ সংবিধানে বিভিন্ন সময় কিছু কিছু সংশোধনী আনা হবে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সংবিধানের আলোকে সংগঠনের যাবতীয় কাজ আঞ্জাম দেয়ার তৌফিক দিন।

আমীন!


ভূমিকা 


আমরা প্রত্যেক সদস্য এই সমিতির সংবিধানের উপরে দৃঢ় বিশ্বাস রাখি যে, কুরআন ও হাদিসের আলোকে সুদমক্ত হালাল পন্থায় জীবন ব্যবস্থায় শ্রেষ্ঠ। 


ধারা১: সমিতি


এই সমিতির নাম নাফ কেয়ার গ্রুপ


লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য


ধারা২:


অত্র সমিতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো: সকল সদস্যদের সম্মিলিত অর্থায়নের ভিত্তিতে, সুদ মুক্ত অর্থনৈতিক জীবন যাপনের প্রয়াসে,ইসলামি শরীয়াহ ভিত্তিক অর্থ সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সমিতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকল সদস্যদের ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক সম্মৃদ্ধি বৃদ্ধি করা। 


ধারা ৩-: 


 অত্র সমিতির সাংগঠনিক অঞ্চল : কক্সবাজার জনপদ।


ধারা-৪:কার্যসূচী


ক)একজন সদস্য যদি সমিতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে তার ব্যবসার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করেন, এ সমিতির কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির সাথে পূর্ণ ঐকমত্য পোষণ করেন ও তা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন, এ সমিতির সংবিধানকে সম্পূর্ণরূপে মেনে চলেন,এবং সমিতির লক্ষ্য ও কর্মসূচির বিপরীত কোন কাজ না করেন, তাহলে তিনি এই সমিতির সদস্যপদ লাভ করতে পারেন।


ফি: সংগ্রহ 


 খ): প্রত্যেক সদস্য প্রতিমাসে ১০০০টাকা হারে ফি প্রদান করবে। সার্বিক বিবেচনায় সমিতির সিদ্ধান্তে ফি-র পরিমাণ পরিবর্তিত হবে। এছাড়া কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে বার্ষিক ফি ও উন্নয়ন ফি-সহ আরো অন্যান্য ফি উত্তোলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।


গ):প্রত্যেক নতুন সদস্যদের সমিতির ভিত্তি মজবুতের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০০০০হাজার টাকা জমা করতে হবে। উক্ত টাকা জমা দানের জন্য একজন সদস্যকে ৪মাস সময় দেওয়া হবে।৩০০০০হাজার টাকা ৪মাসের মধ্যে জমা করতে না পারলে সদস্য পদ বাতিল বলে গণ্য হবে।


ঘ) বিনিয়োগ : সমিতির মোট মূলধন ২.৫ লক্ষ টাকা হলে সুদবিহীন লাভজনক ও নিরাপদ খাতে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে মূলধনের সর্বোচ্চ ৭০% অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে। পরবর্তী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৩০% বলবৎ থাকবে।


ঙ) লভ্যাংশ : সমিতির মোট মূলধন কমপক্ষে ১০ লক্ষ টাকা হলে তখন লভ্যাংশ বন্টন করার ব্যাপারে বিবেচনা করা হবে।


 চ) সাধারণ সভা : প্রতি ২ মাস অন্তর অন্তর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সভায় কার্যকরী পরিষদ সমিতির যাবতীয় বিষয় সদস্যদের নিকট উপস্থাপন করবে। প্রতি একমাসে অন্তত একবার কার্যকরী পরিষদের সভা বসতে হবে। তাছাড়া সার্বিক বিবেচনায় কার্যকরী পরিষদ যেকোন সময় জরুরী সভার আহবান করতে পারবেন।প্রত্যেক সভায় সকল সদস্যদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।



ধারা-০৫:


ক) সদস্য : মোট সদস্য সংখ্যা হবে ১০জন।


খ) ১. সদস্যদের কাজ : প্রতি মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে নিজ দায়িত্বে নির্ধারিত পরিমাণ ফি অর্থ সম্পাদককে পরিশোধ করে জমা দানের রশিদ সংগ্রহ করতে হবে। অথবা ব্যাংকে জমা দিলে জমার রশিদ অর্থ সম্পাদক বরাবর পৌঁছাতে হবে।


২) সমিতির সকল কর্মসূচীতে প্রত্যেক সদস্যকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকতে হবে। অন্যথায় যৌক্তিক কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে ১০০টাকা জরিমানা প্রদান করতে হবে।


৩) কোন সদস্যের ব্যক্তিগত ও সমাজ-রাষ্ট্র বিরোধী কোন কার্যকলাপের দায়ভার সমিতি বহন করবে না।


ধারা-০৬ :


ক) কোন সদস্য যদি সমিতির কোন ধারা লঙ্ঘন করেন, সমিতিকে অবজ্ঞা পোষণ করেন এবং তার দ্বারা সমিতির কোন ক্ষতি সাধিত হয়, তাহলে সমিতির নিকট সন্তোষজনক জবাবদিহি করতে হবে। অন্যথায় সমিতির সভায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে উক্ত সদস্যের বিষয়ে আর্থিক জরিমানা অথবা সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।


খ)কোন সদস্য একটানা দীর্ঘ ৪মাস পর্যন্ত মাসিক ফি আদায় না করলে, উক্ত সদস্যের সদস্যপদ চূড়ান্তরূপে বাতিল বলে গণ্য হবে।


ধারা-০৭ : 


কোন সদস্য যদি স্বেচ্ছায় অথবা সংগঠনের সিদ্ধান্তে সদস্যপদ বাতিল করতে চায়, তাহলে ঐ সদস্যকে তার মূলধন পাওয়ার জন্য সংগঠনের মূল মূলধন ১০লক্ষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে তার মূল জমা টাকাগুলো ফেরত দেওয়া হবে।


ধারা-৮ : 


কোন সদস্যের মৃত্যু হলে তার নমীনি সদস্যপদ চালিয়ে যাবে। যদি নমিনী অপারগতা প্রকাশ করে তাহলে পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে তার মূলধন তার লভ্যাংশসহ ফেরত দেওয়া হবে।



ধারা-৯ :


 ক) সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে ৩জন সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী পরিষদ গঠন করা হবে।


খ) কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ হবে ২বছর। পরিষদের মেয়াদ শেষে ১০দিবসের মধ্যে পরিবর্তী নির্বাচনের আয়োজন সদ্যবিলুপ্ত কমিটিকে করতে হবে।


ধারা-১০ : 


কার্যকরী পরিষদ তাদের কাজের জন্য সদস্যদের নিকট দায়ী থাকবে। দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি প্রয়োজনবোধ করে কার্যকরী পরিষদ বা পরিষদের কোন সদস্য পরিবর্তন দরকার, তাহলে উপ-নির্বাচন করা হবে।


ধারা-১১ : 


চেয়ারম্যান সমিতির সার্বিক শৃঙ্খলা বিধান, সদস্যদের দায়িত্ব বন্টন ও সর্বোচ্চ নির্বাহীর দায়িত্বে থাকবেন।


ধারা-১২ :


 অফিস সম্পাদক সমিতির সকল বিজ্ঞপ্তি প্রদান এবং সংগঠনের সকল দাপ্তরিক নথিপত্র সংরক্ষণ করবেন।


ধারা-১৩ :


 অর্থসম্পাদক প্রতিমাসের ০১তারিখ হতে ০৫ তারিখের মধ্যে মাসিক ফি সংগ্রহ করে ১০তারিখের মধ্যে ব্যাংকে জমা করবে এবং সমিতির যাবতীয় আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ করবে।


ধারা-১৪ : 


সমিতির অর্থবছর জুলাই মাস থেকে পরবর্তী জুন মাস পর্যন্ত গননা করা হবে। 






NAF CARE GROUP


#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !